tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়পুরোনো দুই চুক্তিতে বিমানবন্দরের ব্যয় বাড়ছে ৭৬৬ কোটি টাকা

পুরোনো দুই চুক্তিতে বিমানবন্দরের ব্যয় বাড়ছে ৭৬৬ কোটি টাকা

সার আমদানিতে ব্যয় ১,৪৬৬ কোটি, ১০ হাজার টন চিনি কিনতে ১০৩ কোটি টাকা অনুমোদন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ও পরামর্শক সেবার পুরোনো দুটি চুক্তির ব্যয় বাড়ছে ৭৬৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং পরামর্শক সেবার ব্যয় বাড়ছে ৪০৫ কোটি টাকা।

একই সঙ্গে ইউরিয়া, এমওপি ও ডিএপি সার আমদানিতে প্রায় ১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা এবং ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি কিনতে ১০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। চিনি সরবরাহের জন্য মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের চুক্তি সংশোধন, সার আমদানি ও চিনি কেনার এসব প্রস্তাবে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৪৯তম সভায় মোট ১২টি ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়। সভায় কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের একটি প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে একই দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম সভায় এলএনজি ক্রয়সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব আলোচনায় আসে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানির আরও কয়েকটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এসব এলএনজি ক্রয়ের মোট ব্যয় নির্ধারণের মতো পূর্ণাঙ্গ মূল্যসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর প্রকল্পে বাড়তি ব্যয় ৭৬৬ কোটি টাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার ২৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মূল চুক্তিমূল্য ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৯ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ ৬ হাজার ৭২৪ টাকা। অর্থাৎ নির্মাণকাজের সংশোধিত চুক্তিমূল্য মূল চুক্তির তুলনায় ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি হবে। কাজটি করছে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম।

একই প্রকল্পের পরামর্শক সেবার চুক্তিমূল্য ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এতে মূল চুক্তিমূল্য ৭৭১ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৭ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৭ টাকা। এ ক্ষেত্রে চুক্তিমূল্য বাড়ছে ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

নির্মাণকাজ ও পরামর্শক সেবার সংশোধিত চুক্তিমূল্য মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২২ হাজার ১৩৬ কোটি ১ লাখ ৪ হাজার ১৮১ টাকা। এর মধ্যে নতুন করে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে ৭৬৫ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার ২৫ টাকা।

সার আমদানিতে ব্যয় ১,৪৬৬ কোটি টাকা

শিল্প মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মোট ৮২ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির কথা রয়েছে।

সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনতে ব্যয় হবে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৪৪৬ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশনস লিমিটেডের কাছ থেকে ৪২ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার ২৯০ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতি টনের দাম ৫৩১ দশমিক ৬৭ ডলার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রস্তাবে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৪৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪ হাজার ৮৫০ টাকা।

এর মধ্যে রাশিয়ার প্রডিনটর্গ থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কিনতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা। এ ছাড়া কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের কাছ থেকে দুটি পৃথক লটে ৪০ হাজার টন করে মোট ৮০ হাজার টন সার কেনার প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিটি লটে ব্যয় হবে ১৮৮ কোটি ৮৯ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ টাকা।

এ ছাড়া সৌদি আরবের মাআদেন থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি টনের দাম ৮৬১ দশমিক ৫০ ডলার।

সব মিলিয়ে ইউরিয়া, এমওপি ও ডিএপি সার আমদানির ছয়টি প্রস্তাবে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৬৫ কোটি ৯০ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪০ টাকা।

চিনি কিনতে ব্যয় ১০৩ কোটি টাকা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি কেনার কথা রয়েছে। দুটি প্রস্তাবেই ৫ হাজার টন করে চিনি কেনা হবে।

প্রথম প্রস্তাবে প্রতি কেজি চিনির দাম ধরা হয়েছে ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা। এতে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রতি কেজি চিনির দাম ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

দুটি প্রস্তাবে চিনির মোট মূল্য ১০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট ও করসহ মোট ব্যয় একই পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

এলএনজি ক্রয়ে নীতিগত অনুমোদন

রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য পিপিএ-২০০৬-এর ধারা ৬৮ এবং পিপিআর-২০২৫-এর বিধি ১০৭, ৯৭ ও ৯৮ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, সাহারা এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড এবং শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি কেনার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি কেনার দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট নয়টি কার্গো এলএনজি কেনার কথা রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে কার্গোর সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

এসব এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও মোট ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।

কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের প্রস্তাব প্রত্যাহার

কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের একটি প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির দেওয়া দরপ্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৫ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। আর ২০ বছর মেয়াদে ব্যয়ের প্রস্তাব ছিল প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

তবে এসব ব্যয়ের প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রকল্পটি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।