পাবনায় প্রেমের ফাঁদে (হানি ট্র্যাপ) ফেলে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা ও অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাবনা শহরের পূর্ব কায়েমকোলা এলাকার পলি খাতুন, তাঁর স্বামী জামাল হোসেন (৪৩) এবং মহাদেবপুর এলাকার উকিল সর্দার (৪৩)।
ডিবি পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পলি খাতুনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ দিন ধরে মুঠোফোনে কথা বলে ওই ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার তাঁকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে দেখা করার জন্য ডেকে আনা হয়।
সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা পলির সহযোগীরা তাঁকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে শ্রীপুর বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে তাঁর পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দুপুর ১টার দিকে ভুক্তভোগী তাঁর ২৬ বছর বয়সী ছেলের মুঠোফোনে কল করে অপহরণের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে তাঁকে ডেকে এনে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। মুক্তির বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
বাবার অপহরণের খবর পেয়ে তাঁর ছেলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কোনো সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ডিবি পুলিশের দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাবনা থানার শ্রীপুর বাজার এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর চার হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
পরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পলি খাতুনকেও গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পাবনা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালানোয় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



