tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশকালকিনিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, কুপিয়ে যুবককে হত্যা; আহত ৪

কালকিনিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, কুপিয়ে যুবককে হত্যা; আহত ৪

মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্বশত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তাইজুল সরদার (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের আগে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তাইজুল সরদার মাদারীপুর সদর উপজেলার চর কুলপদ্বী এলাকার মৃত রুস্তুম আলী সরদারের ছেলে। তিনি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন কালকিনির মোতালেব চৌকিদারের ছেলে মহসিন চৌকিদার ও জহির চৌকিদার এবং সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকার বারেক সরদারের ছেলে আল আমিন সরদার। আহত আরেকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গুরুতর আহত মহসিন ও জহিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আল আমিন মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে কালিগঞ্জ বাজারে হানিফ হাওলাদারের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন সরদার এবং মহসিন ও জহিরসহ কয়েকজন। এ সময় ইজিবাইকে করে আসা বোরকা পরা কয়েকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জহির ও মহসিনের ওপর হামলা চালান। এ হামলায় তাইজুল ও তাঁর সহযোগীরা জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

পরে হাফিজুর রহমান মিলনের অনুসারী ও স্থানীয় লোকজন পাল্টা হামলা চালান। এতে তাইজুলসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাইজুলের মৃত্যু হয়।

তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, সকালে সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন সরদার তাঁর লোকজন নিয়ে তাইজুলের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন সরদার ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যান সাহীদ পারভেজ ও তাঁর সমর্থকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

এ বিষয়ে হাফিজুর রহমান মিলন বলেন, হামলাকারীরা চাঁদাবাজ। এর আগেও তাঁরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়িঘরে আগুন দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। মিলনের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে বোরকা পরে কয়েকজন তাঁকে ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের প্রতিহত করেন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।