tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের শঙ্কা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল ৩ শতাংশের বেশি

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের শঙ্কা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল ৩ শতাংশের বেশি

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোতে হুতিদের আক্রমণকে কেন্দ্র করে অস্থির হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। এসব ঘটনার প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে জ্বালানি তেলের দাম।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসায় আগামী দিনগুলোতেও তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৩৫ ডলার বা ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ১১২ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ১৮ মে’র পর এটিই ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ দাম।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৬৮ ডলার বা ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৮৩ ডলারে পৌঁছেছে।

পিভিএম অয়েলের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা বলেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাগুলো ক্রমেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরব ও দেশটির তেল অবকাঠামোতে হুতিদের আক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় বেশি পরিমাণে তেল রপ্তানির খবরও বাজারের উদ্বেগ কমাতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত কমার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে নিকট ভবিষ্যতে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

এদিকে, মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা এক নোটে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।

সৌদি আরবে হামলা, কূটনীতিকদের সরানোর নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনায় নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোর কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মার্কিন মিশন থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

এর আগে বুধবার সৌদি আরবের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। এসব হামলার মধ্যে দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে আঘাতের ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবের একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় বুধবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। তবে এসব বিস্ফোরণের কারণ ও উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে আইআরজিসির হুঁশিয়ারি

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

সংস্থাটির নতুন এক বার্তায় বলা হয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে আবারও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও তীব্র হচ্ছে। এর সঙ্গে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোতে হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা যুক্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য স্টার