এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘চাম্পি’। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে পরিকল্পিত একটি বড় সামরিক মহড়ার সূচিতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, ‘চাম্পি’ ইতোমধ্যে সুপার টাইফুনে রূপ নিয়েছে। চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড়টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটার বা ১৪১ মাইলের বেশি রয়েছে। এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির ব্যাসার্ধ বেড়ে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার বা ১৯৯ মাইল হয়েছে। এর বিস্তৃতি তাইওয়ানের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিডব্লিউএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার বা ৩২০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে অতিক্রম করে চীনের উপকূলের দিকে মোড় নিতে পারে। পরে ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ জাপানের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবহাওয়াবিদদের ধারণা, ‘চাম্পি’র প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। এরই মধ্যে উপকূলীয় শহরগুলোতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এসব বার্তায় উপকূলীয় এলাকায় ৬ মিটার বা ২০ ফুটের বেশি উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া তাইওয়ানের রাজধানী তাইপের আশপাশের পাহাড়ি এলাকা এবং দ্বীপরাষ্ট্রটির উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ১ মিটার বা ৩ ফুট পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলেও বড় ঢেউয়ের কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স



