tanaka

ইউএনও কার্যালয়ে হাসিমুখে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, নারী কর্মকর্তাকে বদলি

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরোজা চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে। তাকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকনিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইরানের ৯০০ কোটি ডলার লেনদেন

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইরানের ৯০০ কোটি ডলার লেনদেন

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের বিপুল অঙ্কের অর্থ মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৯০০ কোটি ডলারের ইরানি অর্থ মার্কিন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ইরানের অর্থ মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করছে। এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকের লেনদেনের সম্পর্ক থাকায় অর্থের উৎস গোপন রেখে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় তা স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এসব অর্থ লেনদেন শনাক্ত করেছে। বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ভুয়া কোম্পানি এবং বিভিন্ন মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানের অর্থ এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা হতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করে তা আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন সময়ে এ তথ্য সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা কোনো কোম্পানি বা দেশকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে।

তেল বিক্রিই এখনো প্রধান আয়ের উৎস

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিভিন্ন উপায়ে অর্থপ্রবাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস এখনো তেল রপ্তানি।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলেও বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিভিন্ন ট্যাংকারে মজুত রয়েছে। এসব ট্যাংকারের অনেকগুলো এশিয়ার বিভিন্ন সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইরানি তেল মজুত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। দেশটির মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি চীনে যায়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জ্বালানি তথ্যপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আগস্টে চীন প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে।

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান সমুদ্রেই এক ট্যাংকার থেকে অন্য ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল স্থানান্তর করে থাকতে পারে। এতে তেলের প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো ট্যাংকার থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের পর সেটি ভিন্ন উৎসের তেল হিসেবে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভর্টেক্সার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার সমুদ্র এলাকায় ভাসমান মজুত হিসেবে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল রয়েছে। এসব তেলের বাজারমূল্য কয়েক শ কোটি ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডলারের বিকল্প হিসেবে ইউয়ান

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে ইরান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা ক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে ইরানি তেলের মূল্য মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করছে।

এই ইউয়ান ব্যবহার করে ইরান চীন থেকে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কিনতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানি ইরানে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করলে তেলের বিনিময়ে সেই কাজের মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে ইরানকে সরাসরি মার্কিন ডলারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন করতে হচ্ছে না। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও অব্যাহত রাখার সুযোগ পাচ্ছে দেশটি।

ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহারও বাড়ছে

অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ক্রিপ্টোকারেন্সিও ব্যবহার করছে ইরান। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর উদ্ধৃত গবেষকদের মতে, বাণিজ্য, অস্ত্র এবং অন্যান্য পণ্য কেনার জন্য ইরান শত শত কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসও তেল বিক্রির অর্থ গ্রহণে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থও থাকতে পারে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের ফলে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট লেনদেন শনাক্ত এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও ইরানের এখনো মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে। আমদানি করা পণ্যের মূল্য পরিশোধ, সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের সহায়তা দিতে এসব মুদ্রার প্রয়োজন হয়।

হংকং ও দুবাইয়ে আর্থিক নেটওয়ার্ক

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর উদ্ধৃত কর্মকর্তাদের মতে, এ কারণে হংকং ও দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্রে ভুয়া কোম্পানি ও মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান।

এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের তেল বিক্রি এবং অন্যান্য রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থ ডলার, ইউরো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামে রূপান্তর করতে পারে। একই সঙ্গে এসব লেনদেনের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সম্পর্ক গোপন রাখারও চেষ্টা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের অর্থ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ ঠেকাতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় নিয়মিত বিভিন্ন ব্যাংক, কোম্পানি ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। তবে একটি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলেই পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কারণ, ইরানের অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্কে একাধিক দেশ, ব্যাংক, কোম্পানি ও মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ইরানি অর্থ প্রবেশের পথ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

তেল বিক্রি, বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান তার অর্থপ্রবাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।