বৈশাখের আগেই চুয়াডাঙ্গায় দাবদাহের প্রভাবে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। টানা কয়েক দিন জেলা জুড়ে তাপপ্রবাহ চলছে। শুক্রবার বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও ছিল ৩৮.৫ ডিগ্রি।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুধু তাপমাত্রা নয়, বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তায় পিচগলা গরমে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। শহরের বড় বাজারে দেখা হয় ভ্যানচালক কাসেম মিয়াকে। কপাল ভিজে ঘাম মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “রাস্তা বের হলেই মনে হয় আগুন ছ্যাঁকা পড়ছে, তবু পেটের দায়ে বের হতে হচ্ছে।”
দাবদাহের প্রভাব পড়েছে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও। তীব্র রোদে মাঠের ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বেলা ১১টার পর রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে যায়। যারা বের হচ্ছেন, তারা ছাতা, রুমাল বা টুপি ব্যবহার করছেন। ঘরের ভেতরও স্বস্তি নেই; ফ্যান থেকে বের হওয়া গরম বাতাস ও ভ্যাপসা গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের সমস্যা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জাহিদুল হক জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে চলেছে। বুধবার ছিল ৩৬.৩ ডিগ্রি, যা শুক্রবার ছাড়িয়েছে ৩৯ ডিগ্রি। তিনি সতর্ক করে বলেন, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এ পরিস্থিতি কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
চিকিৎসকরা হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রচুর পানি, স্যালাইন এবং তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ক্লাইমেট নলেজ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৩৬ ডিগ্রি পর্যন্ত মৃদু দাবদাহ, ৩৮ ডিগ্রি পেরোলেই মাঝারি তাপপ্রবাহ, আর ৪০ ডিগ্রি ছাড়ালে তা তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। চুয়াডাঙ্গার এই তাপমাত্রা এখন মধ্যবর্তী থেকে তীব্র দাবদাহের দিকেই অগ্রসর।



