tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিশ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিশেষ ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিশেষ ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে মঙ্গলবার একটি সার্কুলার জারি করে তা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের অনুকূলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিশেষ ঋণ সুবিধা দিতে পারবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ তিন মাসের গড় বেতন-ভাতার সমপরিমাণ ঋণ পাবে। ঋণটি তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে। তবে ঋণের অর্থ উদ্যোক্তাদের হাতে দেওয়া হবে না; ব্যাংক সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে বেতনের অর্থ পরিশোধ করবে।

এর আগে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-এর একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসন্ন ঈদের আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিশেষ ঋণ সুবিধা চেয়েছিল। তৈরি পোশাক শিল্পে বকেয়া বেতনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদের আগে এ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে গ্রাহকের সক্ষমতা বিবেচনায় মেয়াদি ঋণ দেওয়া যাবে। তবে এ ঋণের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসের প্রদত্ত গড় বেতন-ভাতার বেশি হবে না। ঋণটি ‘মেয়াদি ঋণ’ হিসেবে তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ এক বছরে সমান কিস্তিতে—মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে—পরিশোধ করতে হবে।

যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের অন্তত ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে, সেগুলোকে রপ্তানিমুখী হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া, যেসব প্রতিষ্ঠান গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে, সেগুলোকে সচল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সচল ও রপ্তানিমুখী হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠন—যেমন বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ—এর প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে নিয়মিত সুদ ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত সুদ, মুনাফা, ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না।

সার্কুলারে এ বিশেষ ঋণ সুবিধার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, রপ্তানি আয় হ্রাস, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং তারল্য সংকটের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অনেক প্রতিষ্ঠান সক্ষমতা হারাচ্ছে। উৎপাদন ও রপ্তানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ণ রাখতে সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।