tanaka
প্রচ্ছদরাজনীতিআওয়ামী লীগ নেতারা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন: মির্জা আব্বাস

আওয়ামী লীগ নেতারা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন: মির্জা আব্বাস

আওয়ামী লীগের নেতারা ভারত থেকে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। একই সঙ্গে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির এই নেতা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি অফিসার্স ক্লাবে নিজের সংসদীয় এলাকা ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি শুনলাম, কালকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। আমাদের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতারা আসা শুরু করেছেন। আপনারা দয়া করে চোখ-কান খোলা রাখবেন। কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, ওদের আশ্রয় দিচ্ছে কারা জানেন? আমাদের বিএনপির কিছু লোক টাকার বিনিময়ে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। সবাইকে একযোগে প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বিএনপির অভ্যন্তরে এ ধরনের শত্রু আছে, তাদের একযোগে প্রতিহত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, এদের প্রতিহত করতে হবে। আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠ লোক বলে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। বিএনপির যে শত্রু, সে আমারও শত্রু। আমার যে শত্রু, সে বিএনপির শত্রু। আপনাদের যে শত্রু, সে বিএনপির শত্রু। সুতরাং এদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

বিএনপির ভেতরে কেউ আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয় দেওয়া কিংবা দেশে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করলে দলকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপির অভ্যন্তরে কেউ যদি এদের আসার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করে, আমাদের জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’

‘বিএনপি এখনো মাঠে নামেনি’

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনেকেই এখন ভাবছেন, এটা করে ফেলব, ওটা করে ফেলব। আরে ভাই, বিএনপি এখনো মাঠে নামেনি। বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না আপনারা।’

বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ব্যক্তির বিপুল অর্থসম্পদ অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই যে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় শত শত কোটি টাকা কামালেন, কীভাবে, কী কারণে? আমাদের তো টাকা দেয় না। আপনাদের টাকা দেয় কেন, এটা আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে।’

তরুণদের সম্পদ ও জীবনযাত্রা নিয়েও কটাক্ষ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আর পিচ্চি পিচ্চি পোলাপানগুলো, যারা স্কুলে লেখাপড়া শেষ করেছে মাত্র, তারা এখন মোটা হচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব? আপনারা বলতে পারেন, কার মতো মোটা হচ্ছে? আমি যদি বলি, খাসির মতো মোটা হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে কয়েকজনের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শুনলাম, এদের মুরুব্বিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যৌথ মিটিং করছেন। কীভাবে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যায়, সেই বুদ্ধি করছেন। আমি বুদ্ধি দিয়ে দিচ্ছি—বিএনপির সঙ্গে পারবেন না। নাকে তেল দিয়ে ঘুমান দুই-চার বছর। বিএনপি যেমন আছে, তেমনই থাকবে। আল্লাহর রহমতে বিএনপি আবারও এ দেশের জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের এত ব্যস্ত হতে হবে না। গত কয়েক দিনে যা শুরু করেছেন, তা দেখেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমরা মুসলমান। কিছু দল মুসলমানের বিরুদ্ধে আরেক মুসলমানকে দাঁড় করিয়ে যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতায় গিয়ে কী করবেন, সেটা জনগণকে বোঝান। জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় আসবেন, অসুবিধা কী? কিন্তু বিকল্প পথে ক্ষমতায় যাওয়ার আশা করবেন না। এ দেশের মানুষ এর জবাব দেবে।’

বিএনপিকে দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ভাববেন না, বিএনপি শেষ হয়ে গেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের কাছ থেকে সহজে ক্ষমতা নেওয়া যায়নি। ক্ষমতা নিতে হলে ভোটের মাধ্যমে নিতে হবে।’