tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদরাজনীতিরাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত তারেক রহমানের

রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত তারেক রহমানের

দেশের রাজনীতিতে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর তিনি নিজ উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের শীর্ষ নেতাদের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি সাক্ষাৎ করেন ডা. শফিকুর রহমান এবং নাহিদ ইসলাম–এর সঙ্গে। বিশ্লেষকদের মতে, ’২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

গতকাল সন্ধ্যায় প্রথমে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমীরের বাসায় যান বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখানে ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান ডা. শফিকুর রহমান। প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠকের পর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বেইলি রোডের বাসভবনে যান। রাত সাড়ে আটটার দিকে পৌঁছালে নাহিদ ইসলামও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সেখানেও প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পায় বিএনপি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পায় দলটির সাবেক জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী। আর জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এনসিপি ছয়টি আসনে জয়ী হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

দুই নেতার বাসভবনে প্রবেশের সময় শিশুদের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তারেক রহমান। তিনি হাসিমুখে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
জামায়াত আমীরের সঙ্গে ছিলেন নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।
অন্যদিকে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

অগ্রিম অভিনন্দন ও রাজনৈতিক বার্তা

সাক্ষাতের পর ডা. শফিকুর রহমান ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমানকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান। তিনি একে জাতীয় রাজনীতির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত আখ্যা দিয়ে বলেন, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিপক্বতার নতুন অধ্যায় সূচিত হতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তারেক রহমান কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। সরকারের কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করা হলেও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বিষয়ে তারা প্রতিবাদ করবেন। শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবেই সংসদে ভূমিকা রাখার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

দেশের প্রশ্নে ঐক্যের প্রত্যাশা

নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংস্কার ও বিচার ইস্যু নিয়েও কথা হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিষয়টি উত্থাপন করা হলে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম সাক্ষাৎকালে ফুলেল শুভেচ্ছার পাশাপাশি এনসিপির প্রতীক ‘শাপলা কলি’ ও এক শহীদের হাতের লেখা চিঠি উপহার দেন।

সার্বিকভাবে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংলাপ ও সহাবস্থানের নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।