ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে সুর নরম করেছে মোদী সরকার। তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক (দ্রুত বিচার) আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরাও।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না।”
তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতেই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মোদীর পাশে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর একে একে তার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাই মোদী সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তার মতে, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।
রাজনাথ সিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে সরকার শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছেন। তাদের প্রধান দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের চাপেই সরকার দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে, প্রশ্নফাঁস ইস্যু ঘিরে ভারতের পার্লামেন্টেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিজেপি নেতারা বিরোধী দলগুলোর প্রতি এ বিষয়ে সংসদে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা সংসদে গঠনমূলক আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনায় অংশ নেবেন না।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



