লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে গুরুতর কিডনি রোগে আক্রান্ত স্ত্রী নাছিমা বেগমকে বাঁচাতে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন দরিদ্র জেলে নবীর হোসেন। টাকার অভাবে নিয়মিত ডায়ালাইসিস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ অবস্থায় স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
নাছিমা বেগমের বয়স ৪৫ বছর। তিনি উপজেলার ৬ নম্বর পাটারীরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হানিফ কমান্ডার বাড়ির বাসিন্দা। স্বামী নবীর হোসেন পেশায় জেলে। তাদের তিন মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস ধরে গুরুতর কিডনি রোগে ভুগছেন নাছিমা। প্রথমে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রায় চার মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর গত দুই মাস ধরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে তার ডায়ালাইসিস চলছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে হয় তাকে। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। জেলের সামান্য আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার এবং প্রতিবেশীদের সহায়তায় স্ত্রীর চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন নবীর। কিন্তু ধারদেনা ও সহায়তার সব পথ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিয়মিত ডায়ালাইসিস না হওয়ায় নাছিমার হাত-পা ফুলে গেছে। তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তার পরবর্তী ডায়ালাইসিসের সময় নির্ধারিত থাকলেও ওই সময় চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার মতো অর্থ পরিবারের হাতে নেই।
নবীর হোসেন বলেন, মেঘনায় মাছ ধরে কোনোভাবে সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু গত ছয় মাসে স্ত্রীর চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিসের পেছনে যা ছিল সবই শেষ হয়ে গেছে। এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। অর্থের অভাবে স্ত্রীর ডায়ালাইসিস করাতে না পারায় তার চোখের সামনে স্ত্রী কষ্ট পাচ্ছেন। এ অবস্থায় জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে তিনি সহযোগিতার আবেদন জানান।
নাছিমার তিন মেয়েও মায়ের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সহায়তা চেয়েছে। তারা জানায়, চিকিৎসার অভাবে তাদের মায়ের ডায়ালাইসিস বন্ধ হওয়ার পথে। বাবার সামান্য আয়ে এত বড় চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। মাকে বাঁচাতে দেশ-বিদেশের হৃদয়বান মানুষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেছে তারা।
স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বাকী বিল্লাহ বলেন, নবীর হোসেন একজন দরিদ্র ও পরিশ্রমী জেলে। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল শেষ হয়ে গেছে। ধারদেনা করেও এতদিন চিকিৎসা চালানো হয়েছে। এখন পরিবারটি একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এলাকার মানুষের বিপদে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন। নাছিমার জীবন রক্ষায় হুইপসহ সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষদের পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।



