tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশদুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী নারীদের জন্য বিনামূল্যে আল্ট্রাসনো সেবা কমেছে ,ভোগান্তি বেড়েছে...

দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী নারীদের জন্য বিনামূল্যে আল্ট্রাসনো সেবা কমেছে ,ভোগান্তি বেড়েছে আস্থা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন নীতিমালা ও কঠোর মনিটরিংয়ের ফলে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন গর্ভবতী নারীরা ভোগান্তিহীনভাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে আল্ট্রাসনো সেবা পাচ্ছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি, সুনির্দিষ্ট সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা ও নারীবান্ধব পরিবেশের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আগে যেখানে গর্ভবতী নারীদের আল্ট্রাসনো করাতে জেলা শহরে ছুটতে হতো এবং ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ করতে হতো, এখন উপজেলা পর্যায়েই সম্পূর্ণ সরকারি মূল্যে এই সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে এবং মা ও গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ গর্ভবতী মায়েদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই। টোকেন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে।বিশ্রামের জন্য আলাদা চেয়ার, ফ্যান ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আল্ট্রাসনো কক্ষে শুধুমাত্র মহিলা টেকনোলজিস্ট ও নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং রোগী ও হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরীক্ষার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট হাতে পাচ্ছেন রোগীরা। উপজেলার ঝালুকা গ্রামের গর্ভবতী রুমা খাতুন বলেন, আগে আল্ট্রাসনো করাতে শহরে যেতে ২টা গাড়ি ভাড়া আর ১৫০ টাকা লাগত। এখন বাড়ির পাশেই ফ্রি-তে হয়ে যাচ্ছে। সকাল ১০টায় এসে ১টায় বাসায় চলে গেছি। আপারা অনেক যত্ন করে দেখে। পানানগর ইউনিয়নের রোগীর স্বামী আব্দুল হান্নান বলেন, এখানকার পরিবেশ এখন অনেক ভালো। গর্ভবতীদের আলাদা কদর করে। ডাক্তার আপা সবকিছু বুঝায় দেয়, কোনো হয়রানি নাই।আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মেহেদী হাসান সোহাগের কঠোর তদারকি হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো: মেহেদী হাসান সোহাগ। তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যেই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রথমে ভর্তিরত রোগীদের ওয়ার্ডগুলো পরিদর্শন করেন। ওয়ার্ডে গিয়ে তিনি প্রতিটি রোগীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি জরুরি বিভাগে গিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার ও কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে এক্স-রে রুম ও গর্ভকালীন আল্ট্রাসনোগ্রাম রুম পরিদর্শন করে সকল পরীক্ষা সঠিকভাবে পরিচালনা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করেন। দায়িত্ব শেষে নিজ অফিস কক্ষে বসে তিনি প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ জন বহির্বিভাগের রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তার এই নিয়মিত তদারকি ও আন্তরিকতার কারণে হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো: মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও মাননীয় সচিব মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যায়ে মাতৃস্বাস্থ্য সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো: নুরুল ইসলাম স্যার এবং রাজশাহী জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম স্যারের সরাসরি নির্দেশনা ও কঠোর মনিটরিংয়ের কারণে আমরা দুর্গাপুরে নিয়মিত ও মানসম্মত আল্ট্রাসনো সেবা নিশ্চিত করতে পেরেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, কোনো গর্ভবতী মা যেন সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গর্ভবতী নারী এখানে বিনামূল্যে আল্ট্রাসনো সেবা গ্রহণ করছেন। স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের মানসম্মত ও বিনামূল্যের সেবা চালু হওয়ায় মাতৃমৃত্যু ও নবজাতক মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।