ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ফুচকার দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় উচ্চস্বরে হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা, পরে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। এতে ছুরিকাঘাত ও মারধরে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা শিশুপার্ক চত্বরে একটি ফুচকার দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ঋত্বিক শেখ (২১) ও কাকন আহমেদ (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঋত্বিক পৌরসভার দক্ষিণ কামারগ্রামের সেলিম শেখের ছেলে এবং কাকন একই এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে। সংঘর্ষে ঋত্বিকের পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। অন্যদিকে কাকনের মাথায় আঘাত পাওয়া যায়। আহত অপর চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আহত ঋত্বিক ও কাকনকে রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পর শুক্রবার সকালে তারা ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে শিশুপার্কের সামনে থাকা দুটি পৃথক ফুচকা ও চটপটির দোকানে দুই পক্ষের কয়েকজন বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় এক পক্ষ জোরে হাসাহাসি করলে অন্য পক্ষ তাদের এমনভাবে হাসাহাসি না করার জন্য বলে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
বিতর্ক একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঋত্বিক আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় মোট ছয়জন আহত হয়েছেন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা দুজনকে হাসপাতালে রেখে পর্যবেক্ষণ করেন।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তমাল কৃষ্ণ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর শুক্রবার সকালে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, ফুচকা খাওয়ার সময় হাসাহাসিকে কেন্দ্র করেই প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক হয়। পরে তা মারামারিতে গড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



