লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাবেল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইয়েমেনে ইরানি সামরিক উপস্থিতি বাড়ার দাবি উঠেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শত শত কর্মকর্তা ইয়েমেনে অবস্থান নিয়ে হুথি বাহিনীকে সামরিক অভিযানে সহায়তা করছেন।
টানা সংঘর্ষের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরটি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে হুথিরা পুরোপুরি দখলে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বাবেল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত এই বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জাতিসংঘও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে সতর্ক করেছে। এরই মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বাবেল-মানদেবও বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বাবেল-মানদেব দিয়ে চলাচল বন্ধ হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত জাহাজগুলোকে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে সুয়েজ খাল ব্যবহার করে সরাসরি যাতায়াতের পরিবর্তে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যেতে হতে পারে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান অবশ্য হুথিদের সামরিক কর্মকাণ্ড সরাসরি পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং হুথিদের অভিযানে তাদের সহায়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।
দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এরই মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে।
বাবেল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে বিবেচিত। ফলে এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ



