সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও ইয়েমেনে সামরিক অভিযানে যাওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই পাকিস্তানের। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামাবাদ তাদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ অবস্থান জানানো হয়। খবর দ্য মিডল ইস্ট আইয়ের।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের করা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ইসলামাবাদ পদক্ষেপ নেবে। তবে বর্তমানে কোনো ধরনের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে না।
সৌদি আরবের কয়েকটি শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হুথিদের হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র বলেন, এ মুহূর্তে এমন কোনো বিষয় আলোচনায় নেই। তবে পরিস্থিতি যদি সামরিক পদক্ষেপের দাবি করে, তাহলে উপযুক্ত সময়ে চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও তিনি জানান।
গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ওই প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর প্রভাব প্রয়োগ করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকাতেও পাকিস্তান সক্রিয় রয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও কথিত ‘মক্কা জোট’ আরও সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের অগ্রগতি
অন্যদিকে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থার সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত অবস্থান শক্ত করছে হুথিরা। গ্রীষ্মকাল থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ফের সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই অগ্রগতি হুথিদের বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর আরও বেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিতে পারে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত প্রভাবও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কোরি র্যান্সলেমের মতে, সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যের ফলে বাব আল-মান্দেবের ওপর আরও ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে হুথিরা।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির তুলনায় বাব আল-মান্দেব এলাকায় হুথিদের প্রভাব বিস্তার তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কারণ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ও দৃশ্যমান সামরিক উপস্থিতি তুলনামূলক সীমিত।
কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে পিছু হটিয়ে লোহিত সাগর উপকূলের ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা।
আরব গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনব্যাপী সংঘর্ষে উপকূলীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে হুথি যোদ্ধারা।



