দেশের বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আমীরুল ইসলাম আর নেই। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই কামাল আহমেদ বাচ্চু।
মৃত্যুর পর শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জানাজা হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। বাদ জুমা দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ জানাজার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকেল ৩টায় তার মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে নেওয়ার কথা ছিল। সেখানে বিকেল সাড়ে ৩টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বাংলা একাডেমি থেকে মিরপুরের গোলারটেকের উদ্দেশে নেওয়ার পথে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে কিছু সময়ের জন্য মরদেহ রাখা হয়। এরপর গোলারটেক ঈদগাহ জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল রাজধানীর লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে শিশু-কিশোরদের জন্য ছড়া, গল্পসহ নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা রচনা করেছেন তিনি। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক, যার অধিকাংশই শিশুসাহিত্যনির্ভর।
শিশুসাহিত্যে অবদানের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন আমীরুল ইসলাম। তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো ছিলেন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থাপনা-সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিশুসাহিত্যে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আরও বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
তার উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতির মধ্যে রয়েছে ১৯৮৪ সালের সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার, ২০০৩ সালের নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ২০০৫ সালের পদক্ষেপ সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০০৭ সালের ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার।
এ ছাড়া ২০০৯-১০ সালে ছোটদের মেলা পুরস্কার, ২০১১ সালে জাতীয় ছড়া উৎসব সম্মাননা ও শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি।
শিশুসাহিত্যের পারিবারিক ধারার সঙ্গেও আমীরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল। তার চাচা হাবীবুর রহমানও ছিলেন খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক। আমীরুল ইসলাম নিজেও অল্প বয়সেই ‘খামখেয়ালি’ ছড়াগ্রন্থের জন্য বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার অর্জন করে সাহিত্যজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।



