রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের এক নেতাসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট ও বেইলি রোড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিক ও মো. শাহরিয়ার। এর আগে মো. মামুন, আসলাম ও মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবিপ্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাহ আলম অনিকের বিরুদ্ধে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলম অনিক একসময় ছাত্রলীগ ও পরে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে পরিচয় দিতেন। ৫ আগস্টের পর তিনি ‘কিলার ইব্রাহিমের’ দলে যোগ দেন এবং সেখানে ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, রোববার দুপুরের পর রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। মামলার এজাহারে তাকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিউ গিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে করা মামলায় শাহরিয়ারকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভাসানটেক বস্তি এলাকা থেকে মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকা থেকে আসলাম ও মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
যেভাবে হামলার ঘটনা
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, দুই ট্রাকে করে লোকজন এসে তার স্টুডিওতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় হামলার পেছনে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
পুলিশ জানায়, নিউ গিনি প্রপার্টিজের কাছ থেকে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে স্টুডিওটি তৈরি করেছিলেন সালমান মুক্তাদির। হামলার সময় স্টুডিওর বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং মালামাল লুটের অভিযোগ ওঠে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, স্টুডিওর জমির মালিক নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং এলাকার অন্য জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে তাদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



