বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধরনের ‘নব্য শ্রেণির’ দাপট এবং তাদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছর ধরে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজনীতির আড়ালে বুলিং, হ্যারাসমেন্ট, হেনস্তা এবং মানসিক নির্যাতনের সংস্কৃতি চালু করেছে।
শামারুহ মির্জার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার অংশ নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত আক্রমণের বহিঃপ্রকাশ।
পোস্টে তিনি লেখেন, গত দেড় বছরে নব্য শ্রেণির কিছু রাজনীতিবিদ মিথ্যাচার, বুলিং, হ্যারাসমেন্ট, মানসিক অত্যাচার এবং মব তৈরি করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।
তার ভাষ্য, এসব আচরণের মূল উদ্দেশ্য হলো টার্গেট করা ব্যক্তিকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, এ গোষ্ঠীর কাছে শিষ্টাচার বা সামাজিক সৌজন্যের কোনো মূল্য নেই। সব ধরনের ‘ম্যানার্স’-কেই তারা বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে।
শুধু রাজনীতিবিদই নয়, সমাজের কিছু তথাকথিত প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও তিনি সমালোচনার আওতায় আনেন। তার অভিযোগ, কিছু উগ্র ডানপন্থি, বুদ্ধিজীবী, সেলিব্রিটি, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, এমনকি গায়ক, লেখক ও তথাকথিত সাংবাদিকরাও এ ধরনের অরাজকতায় ইন্ধন দিচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন— কোনো সভ্য দেশে এমন আচরণকারীরা কোথায় দাঁড়াতেন?
পোস্টের শেষ দিকে শামারুহ মির্জা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা পরবর্তী প্রজন্ম কী শিখছে, সেটি বড় প্রশ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শামারুহ মির্জার এই পোস্ট সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া কুরুচিপূর্ণ প্রচারণা এবং রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জনমহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।



