ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু করেছে বিএনপি। আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৈঠকের দ্বিতীয় দফা। এর আগে গতকাল ১০৭ জন প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে দলের হাইকমান্ড, যেখানে দেওয়া হয় বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে প্রচারণায় নতুনত্ব আনতে আগেই পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুলশানে একটি নতুন অফিসও ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিনের বৈঠকে সংসদীয় আসন পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ১০৭ জন প্রার্থী অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সহসম্পাদক নেওয়াজ হালিমা ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা রেহান আসাদ।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক প্রার্থী জানান, এটি মূলত একটি কর্মশালার আদলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে নির্বাচনসংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে প্রার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে নির্বাচনি এলাকার কেন্দ্র ও আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা কীভাবে প্রস্তুত ও ভোটারদের কাছে পৌঁছানো হবে, প্রচারণার কৌশল কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া প্রার্থীদের করণীয়, প্রচারণা পরিকল্পনা, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ, পূরণ ও জমাদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি ভোটারদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য উন্নয়ন সেবাসহ আট দফা কর্মসূচি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা সহজভাবে জনগণের কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলা ও কৌশলগত প্রচারণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠক আজও চলবে এবং শুক্রবার বিরতির পর আগামী শনিবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শুরু হওয়া বৈঠকে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সূত্র জানায়, যেসব প্রার্থীর ব্যাংক ঋণ বা আইনগত জটিলতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যদিও খুব সীমিত আসনেই এমন পরিবর্তন আসতে পারে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ, পূরণ, জমাদান এবং জামানত ফিসহ সব কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান।
গাইবান্ধা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মাইনুল হোসেন সাদিক বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রার্থীদের করণীয় বিষয়েই মূলত বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে দলের আট দফা বা ‘এইট পিলার’ কর্মসূচি নতুনভাবে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় ২৩৬টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। ফলে এখন পর্যন্ত মোট ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।



