ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবির পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছালেও পরে কিছুটা কমে ১০৫ থেকে ১০৬ ডলারের মধ্যে অবস্থান নেয়।
হুথিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সৌদি রাজধানী রিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, হুথিদের নিক্ষেপ করা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।
হামলায় কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সৌদি সরকার বা আরামকোর পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তিন শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। পরে কিছুটা দরপতন হলেও ব্যারেলপ্রতি দাম ১০৫-১০৬ ডলারের কাছাকাছি ছিল। বিশ্ববাজারে তেলের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে আরামকো। ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা বাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নতুন করে সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের সতর্কতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাদের মতে, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে সরবরাহে ঘাটতি বাড়তে থাকলে চাহিদার তুলনায় বাজারে তেলের প্রাপ্যতা আরও কমে যেতে পারে।
এদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে শান্তি আলোচনার উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক বাজারের উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সূত্র: আল-জাজিরা



