tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইরান ইস্যুতে শি’কে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা, চীনের সহায়তা ‘অগ্রহণযোগ্য’

ইরান ইস্যুতে শি’কে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা, চীনের সহায়তা ‘অগ্রহণযোগ্য’

ইরানকে চীন সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের সহায়তা করলে তা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ট্রাম্প এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানকে চীনের সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরেন ট্রাম্প।

পারডিউ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগেই আমরা তাদের খুব স্পষ্ট করে জানিয়েছিলাম যে, ইরানকে তারা যে কোনো ধরনের সহায়তা দিক—তা গোয়েন্দা তথ্য, যন্ত্রাংশ কিংবা সামরিক সরঞ্জাম—সবই সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকালও বিষয়টি খুব স্পষ্ট করে বলেছেন।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ও শির মধ্যে ধীরে ধীরে কিছুটা আস্থার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে এবং দুই নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউসে তাদের সাম্প্রতিক বৈঠকটি ছিল ‘খুবই খোলামেলা ও সরাসরি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পারডিউ বলেন, ‘তারা যখনই কথা বলেন, তখন আমরা যে কঠিন বিষয়গুলোর মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলো নিয়ে তাদের আলোচনার ঘনিষ্ঠতা ও গভীরতার একটি ভিন্ন মাত্রা দেখতে পাই।’

ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ট্রাম্প ও শির বৈঠক এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো এসব নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ইরানের অবশিষ্ট যোগাযোগও যতটা সম্ভব বিচ্ছিন্ন করা।

তবে ইরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় বেইজিং সহযোগিতা না করলে এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পারডিউ আরও দাবি করেন, ট্রাম্প ও শি এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে না। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ওই প্রণালিতে কোনো পক্ষকে কখনো টোল আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।

ইরান নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান পারডিউ। তার দাবি, এসব আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তারা কিছু বিষয় পিছিয়ে নিয়েছে এবং আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন এ বিষয়ে কথা বলেন, তখন তারা তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।’

গত এক মাসে ইরান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে ট্রাম্প উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করেছেন বলেও জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

পারডিউ বলেন, ‘ইরান একটি স্বতন্ত্র ইস্যু এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কী, তা ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন।’ তার মতে, এর সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যু কিংবা অন্যান্য বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে ইরানকে চীনের ‘পরোক্ষ সহায়তা’ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন পারডিউ। তিনি বলেন, ‘এই পরোক্ষ কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি আমরা খুব স্পষ্ট করে জানিয়েছি।’

চীনের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে চীন তেহরানকে সহায়তা করছে—এমন অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীনের স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালাতে সহায়তা করেছে।

এ ছাড়া ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীন ইরানকে এমন কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে, যা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর আগে মে মাসে মার্কিন প্রশাসন তিনটি চীনা স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি ছিল, এসব প্রতিষ্ঠানের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় মার্কিন অবস্থানে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছে।

সূত্র: সিএনবিসি