tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকসিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ককরোচ জনতা পার্টির

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ককরোচ জনতা পার্টির

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দলটি এ দাবি জানায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন এবং ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। দুই দিনের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে গত জুনে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচির আদলে নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি দেশজুড়ে প্রচারাভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।

নয়াদিল্লির এনএম সেন্টারে সিজেপির সমাবেশস্থলের বাইরে এদিন এক ডজনের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

দীপকে অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারসাজি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দায়ী করেন তিনি।

নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে বিরোধী দলগুলোরও সোচ্চার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি জানেন যে নির্বাচন কারসাজি করা হয়েছে, তাহলে আপনাকে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং নির্বাচনে কারসাজির অভিযোগও করবেন—দুটি একসঙ্গে হতে পারে না।’

সিইসির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি

সিইসির পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাবি জানিয়েছে সিজেপি। এর মধ্যে রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা, এসআইআর কার্যক্রম নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং এ কার্যক্রম-সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

দলটির সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাস বলেন, ‘স্কুল ঠিক করো’ প্রচারণার অংশ হিসেবে তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। সেখানে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন। তাঁর মতে, পরিবর্তন আনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ভোটাধিকার। এ অধিকার কোনোভাবেই আপসের বিষয় হতে পারে না।

সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এসআইআর-সংক্রান্ত এখন পর্যন্ত নেওয়া সব পদক্ষেপ পর্যালোচনায় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনে এসআইআর নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নথি সুপ্রিম কোর্টের হেফাজতে রাখারও দাবি জানান তিনি, যাতে এসব নথি নষ্ট করা না যায়।

এ ছাড়া আগামী সব নির্বাচন স্থগিত রাখা এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এসআইআর শুরুর আগে প্রকাশিত ভোটার তালিকা সব রাজ্যে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে দলটি।

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিলের দাবি

সিজেপির আরেকটি দাবি হলো, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২৩ বাতিল করা। দলটির মতে, নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে এমন একটি স্বাধীন নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘আমাদের রাজপথে নামতে হবে। আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জ্ঞানেশ কুমারকে কে দিয়েছে?’

নির্বাচন কমিশনারদের আপত্তি নিয়ে প্রতিবেদন

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির পক্ষে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছে সিজেপি।

বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এসআইআর-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব সিদ্ধান্তের কয়েকটি তাঁদের অবগতির বাইরে নেওয়া হয়েছিল।

সৌরভ দাস বলেন, ওই প্রতিবেদনে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার এসআইআর কার্যক্রমকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন কয়েক মাস ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দাসের ভাষ্য, ‘জ্ঞানেশ কুমার এবং যারা তাঁকে নির্দেশ বা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাঁদের অধীনে নির্বাচন কমিশন এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসআইআর শুরু হওয়ার পর প্রায় দেড় বছর ধরে এটি চলে আসছে।’

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিজিৎ দীপকে বলেছিলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে কে ভোট দিতে পারবেন আর কে পারবেন না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এটাই কি গণতন্ত্র?’

সূত্র: দ্য হিন্দু