tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনরিয়াজ কি গোপনে দেশ ছেড়েছেন?

রিয়াজ কি গোপনে দেশ ছেড়েছেন?

একসময় ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন রিয়াজ আহমেদ। অভিনয়ে আসার আগে বিমানবাহিনীতে প্রশিক্ষিত পাইলট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে যুক্ত হন চলচ্চিত্রে।

‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেকের পর একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পান রিয়াজ। ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘হৃদয়ের আয়না’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, ‘হাজার বছর ধরে’ ও ‘মোল্লাবাড়ির বউ’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদের একাধিক নাটকেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।

রিয়াজ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’, যা ২০২২ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই অনেকটা আড়ালে রয়েছেন রিয়াজ। ৫ আগস্টের পর তাকে আর নিয়মিত জনসম্মুখে দেখা যায়নি। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।

এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার দেশত্যাগের বিষয়টি। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে গোপনে দেশ ছেড়েছেন রিয়াজ। তবে এ তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। রিয়াজ কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়তে পারেন রিয়াজ। তবে বিমানবন্দরের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। অবশ্য তিনি স্থলবন্দর ব্যবহার করে দেশ ছেড়ে থাকতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হত্যা মামলায় জামিন আবেদন

দীর্ঘদিন পর চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর আবারও আলোচনায় আসেন রিয়াজ। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনসংশ্লিষ্ট দুটি হত্যা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তিনি। এ সময় তিনি সশরীরে আদালতে হাজির হন। তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এরপর থেকেই রিয়াজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এর আগেও ছড়িয়েছিল নানা গুঞ্জন

রিয়াজের দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে ঘিরে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। একপর্যায়ে তার মৃত্যুর খবরও ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার স্ত্রী সেই খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানান এবং রিয়াজ ভালো আছেন বলে নিশ্চিত করেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরদিন ৬ আগস্ট রাতেও যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন রিয়াজ—এমন প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে ওইসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এরপর থেকেই রিয়াজের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে এফডিসি কিংবা কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতারাও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

ফলে রিয়াজ সত্যিই ১৬ সেপ্টেম্বর গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন কি না, নাকি এটি কেবলই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।