সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশকে আইনি কাঠামোয় আনতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর ১০ এপ্রিল এর গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নতুন আইনে সরকারি ক্রয়ে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার, দক্ষতা, নৈতিকতা, মান এবং টেকসই ক্রয় ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্যও বিভিন্ন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
সংশোধিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো জাতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের ক্রয়ে ১০ শতাংশ কম-বেশি মূল্যসীমা তুলে দেওয়া। পাশাপাশি সরকারি সব ধরনের ক্রয় কার্যক্রমে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট বা ই-জিপি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দরপত্রের ক্ষেত্রেও নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে স্থানীয় অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি ক্রয়ে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয় বিবেচনায় এনে টেকসই পাবলিক প্রকিউরমেন্টের ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দরপত্রের শর্তে পরিবেশের ক্ষতি করে বা শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন করে—এমন কোনো বিষয় রাখার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।
সংশোধিত ব্যবস্থায় রিভার্স অকশন বা বিপরীত নিলামের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিও যুক্ত হয়েছে। এ ব্যবস্থায় সরবরাহকারীরা ইলেকট্রনিকভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দাম কমিয়ে সরকারি চুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের ব্যবহার সম্প্রসারণের বিধান রাখা হয়েছে, যাতে একাধিক সরকারি সংস্থা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পূর্বনির্ধারিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারে।
সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-কে প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইনি স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘ভৌতসেবা’কে আলাদা ধরনের ক্রয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই সংস্কারের ধারাবাহিকতায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি ক্রয়ে নতুন করে ম্যানুয়াল বা অফলাইন দরপত্র গ্রহণের সুযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়েছে। বিপিপিএ জানিয়েছে, ওই সময়ের পর নতুন কোনো অফলাইন টেন্ডারের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।
এর আগে ৪ মে ২০২৫ সালে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে সেটি কার্যকর হয়। ২০২৬ সালের সংশোধনী আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ওই অধ্যাদেশের বিধানগুলো স্থায়ী আইনি কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।



