রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) থেকে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, লন্ডনে চিকিৎসার জন্য অবস্থানকালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ওই ফোনালাপের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তাকে পদত্যাগের অনুরোধ করেছে বলেও খবর ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি দুই-এক দিনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন—এমন গুঞ্জনও তৈরি হয়।
তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “এটি কল্পনার বাইরে।”
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল—সরকার বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারে কি না। তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
সরকারপ্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও নিয়মিত অংশ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলে আসছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও প্রশ্ন ছিল, রাষ্ট্রপতি তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন কি না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার পদত্যাগের গুঞ্জন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন এলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ নিয়েও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিএনপির পক্ষ থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, নাকি দলের বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হবে—তা নিয়েও চলছে আলোচনা। বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার বড় ধরনের সুযোগ পাবে।
বুধবার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফোনালাপের দাবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “এ ধরনের কোনো ফোনালাপের তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এমন কিছু হয়ে থাকলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।”



