tanaka

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ২০৪ কোটি ডলার

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি...
প্রচ্ছদরাজনীতিরাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির যেসব নেতার নাম

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির যেসব নেতার নাম

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

শুক্রবার সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ-পরবর্তী এ সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১-এর শপথকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। পদটি শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আজ দুপুরে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও এ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কথা জানান।

এদিকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। দল ও সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তাঁর নাম তালিকার শীর্ষে রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুলের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাঁকে পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন।

মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। দলের বাইরে অরাজনৈতিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামও আলোচনায় রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদের এক প্রভাবশালী সদস্য একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘একটি নামই আছে। আপাতত বিকল্প ভাবা হচ্ছে না। দলের আর বিকল্প নেই।’

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও নির্বাচিত হতে পারেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন এবং সরকারের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক জানান, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর সংসদ ভেঙে দেওয়া ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।