হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট জানিয়েছেন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জীবনের একটি কঠিন সময়ে তিনি এতটাই মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন যে, তার মনে আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল।
সম্প্রতি মার্কিন সাময়িকী এসকোয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৬২ বছর বয়সী এই অভিনেতা নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ করেন।
ব্র্যাড পিট জানান, জীবনের ওই সময়টিতে তিনি নিজেকে অত্যন্ত অসহায় মনে করতেন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তবে নিজের ক্ষতি করার কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নেননি।
তিনি বলেন, প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকা একজন মানুষ কেন কখনো কখনো মৃত্যুকে কষ্ট থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে দেখতে পারেন, সেই অনুভূতিটি তিনি তখন বুঝতে পেরেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে পিট জানান, শেষ পর্যন্ত তাঁর বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছাই তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিজ্ঞতা তাঁকে আত্মহত্যার পেছনে থাকা মানসিক যন্ত্রণা সম্পর্কে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শেখায়।
এই কঠিন সময়ের সঙ্গে পারিবারিক কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পিট শুধু বলেন, ‘পারিবারিক বিষয়।’ এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে আর বিস্তারিত কথা বলতে চাননি।
ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির পরিচয় হয় ‘মি. অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ সিনেমার সেটে। পরে তারা বিয়ে করেন এবং তাদের ছয় সন্তান রয়েছে।
২০১৬ সালে জোলি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করার পর তাদের দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। ২০১৯ সালে আদালতের মাধ্যমে তারা আইনগতভাবে সিঙ্গেল মর্যাদা পান। এরপর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের আইনি নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়।
ব্র্যাড পিটের সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও সামনে এনেছে—তীব্র মানসিক সংকটের সময়ে মানুষের পাশে থাকা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।



