গরমে শরীর সতেজ রাখতে ডাবের পানি পান করেন অনেকেই। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকায় সুস্থ মানুষের জন্য এটি উপকারী একটি প্রাকৃতিক পানীয় হতে পারে।
তবে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডাবের পানি পান করার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ ডাবের পানিতে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দেওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি এমন রোগী কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শে পটাশিয়াম গ্রহণ সীমিত রাখতে হয়—এমন ব্যক্তিদের ডাবের পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানি ও লবণের ঘাটতি হলে শুধু ডাবের পানি সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ওআরএস বেশি কার্যকর। কারণ ওআরএসে সোডিয়াম ও গ্লুকোজসহ প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে, যা শরীরে হারানো পানি ও লবণ পূরণে সহায়তা করে।
ডায়রিয়া বা বমির সময় ডাবের পানিকে ওআরএসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্যাকেটজাত ওআরএস অবশ্যই প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে পান করতে হবে।
তবে পানিশূন্যতা না থাকলে অপ্রয়োজনে নিয়মিত ওআরএস পান করারও প্রয়োজন নেই। সুস্থ মানুষের জন্য দৈনন্দিন হাইড্রেশনে ডাবের পানি পরিমিত পরিমাণে পান করা যেতে পারে।
আর গুরুতর পানিশূন্যতা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঘরোয়া ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মনে রাখবেন—ডাবের পানি উপকারী হলেও সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমাণ ও ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার বিষয়টি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।



