যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আশাবাদ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি, তবুও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছানোয় বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের জুলাই ডেলিভারির দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট বা ০.৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৩৬ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬৩ সেন্ট বা ০.৭১ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এখনো এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, আলোচনা এখনো শেষ হয়নি।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় এখনো কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশই একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, বেশি লেনদেন হওয়া আগস্টের ব্রেন্ট ফিউচারসের দামও ৪৬ সেন্ট বা ০.৫০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত এক সপ্তাহে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। এই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। এক পর্যায়ে দাম ১০৯ দশমিক ৪৭ ডলার পর্যন্ত উঠলেও পরে তা নেমে আসে ৮৭ দশমিক ১১ ডলারে।
বিশ্ববাজারে এই ওঠানামার পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।



