tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদসারাদেশযুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডুমসডে’র নমুনা দেখাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডুমসডে’র নমুনা দেখাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার পর উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ইরান দাবি করছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, যার ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিনিটম্যান-৩’ (LGM-30) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি পরীক্ষা চালায়। এই ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রায়ই ‘ডুমসডে’ অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়, কারণ এটি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।

‘ডুমসডে’ শব্দটি নতুন নয়। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ সামরিক বিমানের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। এই বিমানটি পারমাণবিক হামলার মতো চরম পরিস্থিতিতেও কার্যকর থাকে এবং আকাশে ভাসমান কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করতে পারে। জরুরি অবস্থায় এটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব।

সংঘাতের ৩৫তম দিনে, ৩ এপ্রিল, ইরান দাবি করে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক বিমান ও ড্রোন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করা হয়, যার মধ্যে এফ-১৫, এফ-১৬, এ-১০ এবং বিভিন্ন ড্রোন অন্তর্ভুক্ত।

তবে এসব দাবির বেশিরভাগই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। সংঘাতের সময় উভয় পক্ষই তথ্যযুদ্ধে লিপ্ত থাকে, ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও সহায়ক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, উইং লুং-২ ড্রোন এবং কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও এই ঘটনাগুলো বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়, ইতিহাসের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর মধ্যে এগুলো পড়ে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতীতে বিভিন্ন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে আফগানিস্তানে একটি চিনুক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৩১ মার্কিন সেনা নিহত হন। ২০০৫ সালে ইরাকে একাধিক হামলায় একদিনে ৩৭ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালের ৬ জুন নরম্যান্ডি অভিযানে একদিনে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা নিহত হন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘ডুমসডে’ শব্দটি আবারও আলোচনায় এসেছে, তবে এটি বাস্তবতার চেয়ে প্রতীকী ও কৌশলগত বার্তা হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।