আগামী বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো পুরুষদের বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার হাতছানি রয়েছে ইংলিশদের সামনে। তবে সেই স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা মেসির নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনাকে হারানো সহজ হবে না—এটা ভালোভাবেই জানেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে সেমিফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসী এই গোলরক্ষক মনে করেন, বড় ম্যাচের চাপেও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
দুই দলের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিশেষ করে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ডেভিড বেকহামের লাল কার্ডের ঘটনা কিংবা অতীতের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিয়েও পিকফোর্ড সতর্ক। তবে তিনি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের বিতর্কে জড়ানোর ইচ্ছা নেই তাদের।
পিকফোর্ড বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টে আপনারা দেখেছেন, আমরা প্রতিটি চ্যালেঞ্জে লড়াই করেছি, কিন্তু কখনো ঝামেলা বা হাতাহাতিতে জড়াইনি। মাঠে আমরা সম্মান বজায় রেখেছি। কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে বা বিপক্ষে গেলেও আমরা দ্রুত মনোযোগ ফিরিয়ে এনে ফুটবলের মাধ্যমেই জবাব দিয়েছি।’
ইংল্যান্ডের শৃঙ্খলার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘জ্যারেল কোয়ানসাহর লাল কার্ড ছাড়া আমাদের আর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কেউ দ্বিতীয় হলুদ কার্ডও দেখেনি। এটা আমাদের মানসিকতার প্রমাণ। আমরা অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে জড়িয়ে পড়ি না, বরং নিজেদের লক্ষ্যেই মনোযোগ রাখি।’
এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। তবে পিকফোর্ড মনে করেন, শুধু মেসিকে ঘিরে পরিকল্পনা করলে ভুল করবে ইংল্যান্ড।
তিনি বলেন, ‘মেসিকে নিয়ে সবাই কথা বলবে, কারণ সে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু আর্জেন্টিনা শুধু একজন খেলোয়াড়ের দল নয়। তাদের পুরো দলই শক্তিশালী। একইভাবে আমাদের দলেও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে।’
ইংলিশ গোলরক্ষক আরও বলেন, ‘আমরা শুধু মেসিকে আটকানোর কথা ভাবছি না। আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং তারা খুব ভালো একটি দল। তবে আমাদেরও শক্তিশালী আক্রমণভাগ, সংগঠিত রক্ষণ এবং জয়ের মানসিকতা রয়েছে। একটি ভালো দলকে আলাদা করে তোলে ঐক্য ও দৃঢ়তা।’
দুই দলের অতীত ইতিহাস নিয়ে না ভেবে বর্তমান ম্যাচেই মনোযোগ দিতে চান পিকফোর্ড। তার ভাষায়, ‘আমাদের সব মনোযোগ এখন ইংল্যান্ডের দিকে। আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে চাই এবং আরেকটি শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিতে চাই।’
সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ‘ম্যাচ ৯০ মিনিটে শেষ হোক, অতিরিক্ত সময়ে যাক কিংবা টাইব্রেকারে গড়াক—আমরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত মাঠে যে দল ভালো করবে, তারাই জয় পাবে।’
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সেমিফাইনালের জয়ী দল বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স অথবা স্পেনের বিপক্ষে।



