ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিদায় শুধু পর্তুগালের ফুটবল মাঠেই শূন্যতা তৈরি করবে না, এর প্রভাব পড়তে পারে দেশটির ফুটবলের বাণিজ্যিক অঙ্গনেও। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্তুগালের সবচেয়ে পরিচিত মুখ রোনালদো। ফলে তাঁর অবসরের পর জাতীয় দলের বিপণন, জার্সি বিক্রি ও বিদেশি বাজারে বাণিজ্যিক আকর্ষণ ধরে রাখা পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন ক্রীড়া বাজার বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল সা। তিনি পোর্তোর পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট অব মার্কেটিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালক। স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য, ফেডারেশন মূলত তাদের পণ্য হারাচ্ছে না, বরং সেই পণ্যের সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে মূল্যবান ব্যক্তিগত সম্পদটিকে হারাতে যাচ্ছে।
ড্যানিয়েল সা বলেন, জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও প্রচারে রোনালদোর ব্র্যান্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্য কোনো পর্তুগিজ ফুটবলারের পক্ষে তাঁর জায়গা নেওয়া কঠিন। তাঁর মতে, রোনালদোর বিদায়ে পর্তুগাল শুধু একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়কেই হারাবে না, হারাবে দেশটির বাণিজ্যিক পরিচিতি ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক মুখকেও।
রোনালদোর ব্র্যান্ডমূল্যও তাঁর প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্ট করে। ২০২৫ সালে ড্যানিয়েল সা’র প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত এক সমীক্ষায় সিআর৭ ব্র্যান্ডের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮৫ কোটি ইউরো। ২০২০ সালের তুলনায় এই মূল্য বেড়েছে ৩২৫ শতাংশ। একই সমীক্ষায় ক্রীড়া জনপ্রিয়তার সূচকে রোনালদোর স্কোর ছিল ১০০-এর মধ্যে ৮৮। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা এক বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। ফলে রোনালদো এখন নিজেই একটি বৈশ্বিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো প্রভাব বিস্তার করছেন।
তবে তাঁর অবসরের কারণে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের আয় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধাক্কা খাবে, এমনটা মনে করছেন না সা। কারণ স্পনসরশিপ চুক্তিগুলো সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে নয়; বরং জাতীয় দল ও ফেডারেশনের বাণিজ্যিক স্বত্বের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়। তাই রোনালদোর বিদায়ে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা কম।
এ ছাড়া বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পর্তুগালের নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং দলে অন্য তারকা ফুটবলারদের উপস্থিতিও বাণিজ্যিক আকর্ষণ ধরে রাখতে সহায়তা করবে। ড্যানিয়েল সা মনে করেন, রোনালদোর অবসরের প্রভাব অবশ্যই থাকবে। তবে ফেডারেশনের রাজস্বে বড় ধরনের পতন ঘটবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞের মতে, রোনালদোর বিদায়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে দুটি ক্ষেত্রে—পণ্য বিক্রি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা। বিশেষ করে তাঁর ৭ নম্বর জার্সি বিশ্বজুড়ে একটি পরিচিত বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। রোনালদোর অবসরের পর একই মাত্রার জনপ্রিয়তা ও বিক্রি ধরে রাখার মতো বিকল্প তৈরি করা সহজ হবে না।
অন্যদিকে, পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ বাজারে টিকিট বিক্রিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ জাতীয় দলের প্রতি সমর্থকদের আবেগ ও আগ্রহ কোনো একজন খেলোয়াড়ের উপস্থিতির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়।
তবে বিদেশের বাজারে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোনালদোর জনপ্রিয়তা পর্তুগালের ম্যাচ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করত। তাঁর উপস্থিতি বিদেশি দর্শকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় দলের বিপণনমূল্যও বাড়িয়ে দিত। সেই জায়গায় নতুন করে শক্ত অবস্থান তৈরি করাই এখন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বড় পরীক্ষা।
সূত্র: গোল ডট কম



