ফুটবল ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। ২০০৮ সালে তোলা একটি ছবিও ঠিক তেমনই। ছবিতে দেখা যায়, তখনকার তরুণ লিওনেল মেসি কোলে নিয়ে গোসল করাচ্ছেন মাত্র আট মাস বয়সী লামিনে ইয়ামালকে। সেই সময় কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, একদিন এই শিশুই বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হয়ে উঠবে।
১৮ বছর পর সেই অসম্ভব কল্পনাই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
সম্প্রতি ডিএজেডএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই ভাইরাল ছবির প্রসঙ্গ টেনে ইয়ামাল বলেন, “আমি একটু বড় হয়েছি, লিও-ও বড় হয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে পারলে দারুণ হবে। ফিনালিসিমায় সেটা সম্ভব হয়নি।”
শুক্রবার ফিফার এক অনুষ্ঠানে একই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানান মেসি। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, ছবিটা অবিশ্বাস্য। এটাই তো জীবন। আমি যখন তাকে কোলে নিয়েছিলাম, সে ছিল একটা শিশু। আর এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
ইয়ামালের প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন মহাতারকা আরও বলেন, “সে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই, কারণ তার ভালো করা বার্সেলোনার জন্যও ভালো। তবে ফাইনালে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব, যেন সে তার সেরা খেলাটা খেলতে না পারে।”
২০০৮ সালের সেই ছবিটি নতুন করে আলোচনায় আসে ২০২৪ সালে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেনের জার্সিতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তোলেন ইয়ামাল। পরে তার বাবা মুনির নাসরাউই ইনস্টাগ্রামে ছবিটি প্রকাশ করলে সেটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য স্মৃতিতে পরিণত হয়।
এখন সেই ছবির দুই চরিত্রই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। একদিকে কিংবদন্তি মেসি, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল নক্ষত্র ইয়ামাল—ফাইনালের লড়াইয়ে এই প্রজন্মান্তরের দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসে যোগ করতে পারে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।



