প্রিয় ফুটবল তারকাকে কাছ থেকে দেখার জন্য ভক্তদের নানা কাণ্ডের খবর প্রায়ই সামনে আসে। তবে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে দেখতে স্পেনের ওবিয়েদো শহরে এক তরুণ ভক্তের নিজের হাত কেটে ফেলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের দাবি, মেসিকে দেখার সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয় এবং কাজে যেতে না হয়, সে জন্যই ওই তরুণ এমনটি করেছেন। তবে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ সম্মাননা গ্রহণের জন্য স্পেনের ওবিয়েদো শহরে গেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার গ্রহণ করতে তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে হোটেলের বাইরে ভক্ত ও সাংবাদিকদের ভিড় জমে।
স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে শহরটিতে পৌঁছে হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় ওঠেন মেসি। তাঁর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হোটেলের প্রবেশপথে সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিশ্রাম শেষে কালো আনুষ্ঠানিক পোশাকে বাইরে এসে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেন আর্জেন্টাইন তারকা।
এ সময় সমর্থকদের সঙ্গে ছবি তোলেন মেসি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও বার্সেলোনার জার্সিসহ বিভিন্ন স্মারকে অটোগ্রাফও দেন তিনি। ভক্তদের কেউ কেউ প্রিয় তারকার হাতে উপহার তুলে দেন। এসব উপহারের মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং কর্নস্টার্চ দিয়ে তৈরি জনপ্রিয় বিস্কুট আলফাখোরেস।
বাবার ইচ্ছার কথা স্মরণ করলেন মেসি
ফুটবল মাঠে অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি অসহায় শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মেসিকে দেওয়া হচ্ছে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার। এই সম্মাননা গ্রহণের মুহূর্তে প্রয়াত বাবার স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মেসি বলেন, এই পুরস্কার পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর বাবা সম্মাননাটি নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ব্যস্ত ফুটবল সূচির কারণে স্পেনে আসা কঠিন হতে পারে, তা জানা সত্ত্বেও বাবা তাঁকে সেখানে যাওয়ার জন্য বারবার উৎসাহ দিয়েছিলেন। বাবার ইচ্ছা ছিল, তাঁরা যেন কয়েকটি দিন সেখানে কাটিয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।
এই স্বীকৃতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেসি আরও বলেন, একজন খেলোয়াড় মাঠে যা করেন কিংবা পেশাদার ক্যারিয়ারে যে সাফল্য অর্জন করেন, এই পুরস্কার তার বাইরেও বৃহত্তর অবদানের স্বীকৃতি বহন করে। তাঁর বিশ্বাস, বাবা বেঁচে থাকলে এই সম্মাননায় ভীষণ খুশি হতেন। মেসির কথায়, তিনি নিশ্চিত যে তাঁর বাবা এখনও এই অর্জন উপভোগ করছেন।
মেসিকে ঘিরে ওবিয়েদো শহরে সমর্থকদের বিপুল আগ্রহ আবারও ফুটবলে তাঁর জনপ্রিয়তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তবে প্রিয় তারকাকে দেখার জন্য নিজের শরীরের ক্ষতি করার অভিযোগটি উদ্বেগজনক। তারকাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই জরুরি।



