ফ্রান্সে অবৈধভাবে মানব পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশিসহ ২১ জনকে কঠোর কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কেন্টের ক্যান্টারবেরি ক্রাউন কোর্ট। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সবাই পূর্ব লন্ডন ও টাওয়ার হ্যামলেটসভিত্তিক একটি মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য।
আদালতের রায়ে চক্রটির অন্যতম সহযোগী ২৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ বাংলাদেশি সুহেল আহমেদকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ট্যাক্সিচালক মো. আলী হোসেন ও সৈয়দ আহমেদকে ছয় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়াও চলছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) দীর্ঘ তদন্তে চক্রটির অবৈধ মানব পাচার কার্যক্রমের তথ্য উঠে আসে। তদন্ত শেষে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এনসিএর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চক্রটি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে ফ্রান্সে পাঠাত। এ কাজের জন্য জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ পাউন্ড নেওয়া হতো। লন্ডন থেকে মিনিক্যাব ও ট্যাক্সিতে করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেন্টে নিয়ে যাওয়া হতো। পরে রোমানীয় দালালদের সহায়তায় লরিচালকদের ঘুষ দিয়ে সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করা হতো।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে সংগঠিত ও পরিকল্পিত উপায়ে আন্তর্জাতিক মানব পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল চক্রটি।
এনসিএর কর্মকর্তা জন টার্নার বলেন, সীমান্তে অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক এই চক্রটিকে গোড়া থেকে নির্মূল করা হয়েছে। তাঁর মতে, এ অভিযানের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ মানব পাচার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।



