tanaka

নিহত সুলতানের ছয়টি সন্তান রয়েছে। তার বাবা ছেলের এই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশ ও মানুষের সেবা করতে গিয়েই তার ছেলে শহীদ হয়েছে

  সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্যদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সুলতান আল-কাহতানি নামের এক বিমানবন্দরকর্মী। ঝুঁকি উপেক্ষা করে আগুন...
প্রচ্ছদজাতীয়গাজীপুরের যানজট ও পরিবেশ সংকট সমাধানে মহাপরিকল্পনার দাবি

গাজীপুরের যানজট ও পরিবেশ সংকট সমাধানে মহাপরিকল্পনার দাবি

গাজীপুরে যানজট নিরসন, পরিবেশ রক্ষা ও পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্টজনেরা। একই সঙ্গে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বচ্ছ মূল্যায়ন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল গাজীপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত ‘বিআরটি প্রকল্পের সমস্যা ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব দাবি জানান। ফোরামের সভাপতি ফয়সাল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক।

সেমিনারে বক্তব্য দেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশিতা, জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আতাউর রহমান, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক, দপ্তর সম্পাদক এস এম নূর মোহাম্মদ, যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সদস্য মঞ্জুর বারী ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম শুভ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল খান।

গাজীপুরের পরিবেশ ও নগরায়ণ নিয়ে উদ্বেগ

মূল প্রবন্ধে শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত কলকারখানার কারণে গাজীপুরের পরিবেশ দূষিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরিবেশ রক্ষায় শিল্পকারখানার কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনা এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রবন্ধে গাজীপুরের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে যানজট, মাদক, কিশোর গ্যাং, সড়কে বর্জ্য ফেলা, ছিনতাই, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, রেলস্টেশনের অকার্যকারিতা, বনভূমি দখল ও কৃষিজমি ভরাটের বিষয়গুলো উঠে আসে।

এ ছাড়া বিআরটি প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পরও প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ সিদ্ধান্ত গাজীপুরসহ ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াত ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়।

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, বিআরটি প্রকল্পের জন্য নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা এবং শ্রীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আবাসন ও নিরাপদ যাতায়াতের সংকটও তুলে ধরা হয়।

শ্রীপুরের সাতখামাইর ও ইজ্জতপুর রেলস্টেশন কার্যকর করা এবং সেখানে প্রয়োজনীয় ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি কালিয়াকৈরে বনভূমি দখল এবং কালীগঞ্জে আবাসন প্রকল্পের নামে কৃষিজমি, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাভূমি ভরাটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বচ্ছ মূল্যায়নের দাবি

মূল প্রবন্ধে বিআরটি প্রকল্প বাতিল এবং নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়। প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, গাজীপুরবাসী দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যাতায়াতের দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। এ অঞ্চলের ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিআরটি চালুর সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার সুপারিশ করা হয়।

প্রকল্প বাতিলের কারণ ও এর পেছনের যুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশের পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা পরিকল্পনাগত ত্রুটি থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।

বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল সম্প্রসারণের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

আগামী ১০০ বছরের পরিকল্পনা চান সংসদ সদস্যরা

গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই, যেখানকার মানুষ গাজীপুরে বসবাস করেন না। জনবহুল এই জেলার উন্নয়নে জনসংখ্যা ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিআরটি ব্যবস্থা থাকলেও গাজীপুরের মতো জনবহুল এলাকায় পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ শুরু থেকেই সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে মাদকের বিস্তার কমানো সম্ভব।

গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, গাজীপুরের বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক। পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এই জেলায় বসবাস করায় আগামী ১০০ বছরের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। অন্যথায় একসময় এলাকাটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরার প্রস্তাব

গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান বলেন, যানজট নিরসনের উদ্দেশ্যে বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তবে এতে সমস্যার সমাধান হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা দরকার।

তিনি বলেন, উত্তরা থেকে ফ্লাইওভারের মাধ্যমে কালীগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও জয়দেবপুরমুখী সংযোগ তৈরি করা হলে যান চলাচলে সুবিধা হতে পারত। সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার নির্মাণের ফলে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহারের দাবি জানান এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাসভাড়া কমানো ও এক্সপ্রেসওয়ে সম্প্রসারণের দাবি

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী বলেন, বিআরটি প্রকল্প বাতিল করা হলে এর পরিবর্তে গাজীপুরবাসীর যাতায়াতের জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। মাদক নির্মূলে পুলিশের সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে গাজীপুরে বাসভাড়া কমানো এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে গাজীপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবিও জানান তিনি।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কাপাসিয়া পৌরসভা গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য।