ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের সম্মানজনক ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার অর্জন করেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। স্পেনের ওভিয়েদো শহরের ক্যাম্পোআমোর থিয়েটারে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন স্পেনের রাজকুমারী লিওনোর।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালো স্যুট ও সাদা শার্ট পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন মেসি। এ সময় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান উপস্থিত ভক্ত ও দর্শকেরা। ১৯৮৭ সালে প্রবর্তিত এই পুরস্কারের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে এককভাবে সম্মাননাটি অর্জন করে নতুন নজির গড়েছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।
এর আগে ব্রাজিল ও স্পেনের জাতীয় ফুটবল দল এবং যৌথভাবে স্পেনের দুই কিংবদন্তি ফুটবলার জাভি হার্নান্দেজ ও ইকার ক্যাসিয়াস এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। তবে এবার এককভাবে মেসির এই অর্জন ফুটবলবিশ্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আটটি ব্যালন ডি’অর, চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এবং ক্লাব পর্যায়ে মোট ৪৭টি ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে মেসির। মাঠের অসাধারণ নৈপুণ্যের পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তার অবদানকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলী।
বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেসি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রম বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ফলে এই সম্মাননা কেবল তার ফুটবলীয় সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, বরং মানবকল্যাণে তার অবদানেরও মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রয়াত বাবা জর্জ মেসির কথা স্মরণ করেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা। মেসি জানান, তিনি জীবিত থাকাকালে এই সম্মাননা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। বাবার সেই আনন্দ ও প্রত্যাশার কথা স্মরণ করে পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটি তার কাছে আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।
ফুটবল মাঠে একের পর এক সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতি—সব মিলিয়ে মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার যুক্ত করল এক অনন্য অধ্যায়।



