tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনমৃত্যুর ৩০ বছর পরও সালমান শাহকে ঘিরে এত আগ্রহ কেন?

মৃত্যুর ৩০ বছর পরও সালমান শাহকে ঘিরে এত আগ্রহ কেন?

মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এখনো কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা ও অনুসরণের এক নাম। অভিনয়, ফ্যাশন কিংবা পর্দায় তার উপস্থিতি—সবকিছুতেই যেন আজও আলাদা আবেদন রয়েছে এই প্রয়াত তারকার।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা জামান ইষ্টির কাছে সালমান শাহর প্রতি ভালো লাগার শুরু পরিবার থেকেই। তিনি জানান, তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন সালমান শাহর ভক্ত। ছোটবেলায় তাদের কাছ থেকেই নায়ক সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি।

ফাহমিদা বলেন, স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে সালমান শাহর অভাবনীয় সাফল্য এবং এরপর তার আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু তাকে পরবর্তী সময়ে আরও আগ্রহী করে তোলে।

তার সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, সালমান শাহকে কখনো নিজের চোখে দেখতে পারেননি। তার ভাষায়, সালমান শাহ বেঁচে থাকলে সুযোগ পেলে অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করতেন।

বিষয়টি আরও বিস্ময়কর এ কারণে যে, ফাহমিদার জন্মের প্রায় ছয় বছর আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন সালমান শাহ। অর্থাৎ তাকে সরাসরি দেখার সুযোগ না থাকলেও পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও এই নায়কের জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিছা নূজহাতের কাছেও সালমান শাহ অন্যদের চেয়ে আলাদা। তার মতে, বাংলা সিনেমার প্রচলিত নায়ক-নায়িকাদের তুলনায় সালমান শাহ ছিলেন ব্যতিক্রমী এবং তার অনেক কিছুই ছিল আইকনিক।

নাফিছা বলেন, অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন সেন্সেও সালমান শাহ ছিলেন সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তার ফ্যাশন, সিনেমা ও গান এখনো জনপ্রিয়। এ কারণেই তাকে একটি প্রজন্মের আইকন হিসেবে দেখা যায়।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর রাতারাতি তারকা বনে যান সালমান শাহ। এরপর মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আকস্মিক মৃত্যুতে থেমে যায় তার জীবনের পথচলা। কিন্তু তার ক্যারিয়ারের স্বল্প সময়ের সাফল্য আজও তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় নায়কে পরিণত করে রেখেছে।

তিন দশক পরও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে সালমান শাহর সিনেমা, অভিনয়, পোশাক ও ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ টিকে থাকা প্রমাণ করে—কিছু তারকা শুধু একটি সময়ের নন, সময় পেরিয়েও তারা দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন।