tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলমায়োপিয়া কী, কেন হয় এবং ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

মায়োপিয়া কী, কেন হয় এবং ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

  1. মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টি চোখের একটি পরিচিত দৃষ্টিজনিত সমস্যা। এতে কাছের জিনিস তুলনামূলক স্পষ্ট দেখা গেলেও দূরের বস্তু ঝাপসা দেখায়। সাধারণত চোখের বল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লম্বা হলে অথবা কর্নিয়ার আকৃতিতে পরিবর্তন থাকলে আলো রেটিনার ওপর সঠিকভাবে ফোকাস করতে পারে না। ফলে দূরের বস্তুর ছবি অস্পষ্ট হয়ে যায়।

    মায়োপিয়ার লক্ষণ

    মায়োপিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে সাধারণত কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

    • দূরের বস্তু ঝাপসা দেখা।
    • দূরের সাইনবোর্ড বা রাস্তার চিহ্ন পড়তে অসুবিধা হওয়া।
    • দীর্ঘ সময় কোনো কিছু দেখার পর চোখে চাপ বা ক্লান্তি অনুভব করা।
    • বারবার মাথাব্যথা হওয়া।

    মায়োপিয়ার সম্ভাব্য কারণ

    মায়োপিয়ার পেছনে বংশগত ও পরিবেশগত—দুই ধরনের কারণই ভূমিকা রাখতে পারে। বাবা-মায়ের কারও মায়োপিয়া থাকলে সন্তানের এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    এ ছাড়া দীর্ঘ সময় খুব কাছ থেকে মোবাইল বা অন্য স্ক্রিন দেখার অভ্যাস এবং বাইরে পর্যাপ্ত সময় না কাটানোও বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মায়োপিয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় কাছের কাজ করা, যেমন পড়াশোনা বা বই পড়া, চোখের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।

    মায়োপিয়া হলে কী ধরনের জটিলতা হতে পারে?

    সাধারণ মায়োপিয়া অনেক ক্ষেত্রে চশমা, কনট্যাক্ট লেন্স বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে মায়োপিয়া বেশি মাত্রায় হলে চোখে গুরুতর কিছু জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    এর মধ্যে রেটিনায় সমস্যা, রেটিনা আলগা হয়ে যাওয়া বা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি, ছানি এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো জটিলতা থাকতে পারে। দৃষ্টিতে হঠাৎ পরিবর্তন, চোখের সামনে আলো ঝলকানি বা ভাসমান কালো দাগের সংখ্যা বেড়ে গেলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    মায়োপিয়ার ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

    জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মায়োপিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

    • প্রতিদিন সম্ভব হলে অন্তত ২ ঘণ্টা বাইরে প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটানোর অভ্যাস করুন।
    • মোবাইল ফোন ও অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনুন এবং দীর্ঘক্ষণ একটানা কাছ থেকে স্ক্রিন দেখা এড়িয়ে চলুন।
    • বই পড়া বা কাছের কোনো কাজ করার সময় নিয়মিত বিরতি নিন।
    • পর্যাপ্ত আলোতে পড়াশোনা করুন এবং চোখ থেকে বই বা স্ক্রিনের উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখুন।
    • প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও সুষম খাবার রাখুন। মাছ, ডিম, শাকসবজি ও ভিটামিন-সমৃদ্ধ ফল নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

    চোখের দৃষ্টিতে ঝাপসাভাব বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে নিজে থেকে চশমার পাওয়ার নির্ধারণ না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা করানো সবচেয়ে ভালো।