tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়মন্ত্রী হতে পারেন সাচিং প্রু জেরী, জানুন তার রাজনৈতিক পরিচয়

মন্ত্রী হতে পারেন সাচিং প্রু জেরী, জানুন তার রাজনৈতিক পরিচয়

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার পদত্যাগের পর গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সাচিং প্রু জেরীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এমনকি চলতি সপ্তাহেই বঙ্গভবনে তার শপথ হতে পারে বলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং কোনো প্রজ্ঞাপনও জারি হয়নি।

সাচিং প্রু জেরী বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী বোমাং রাজপরিবারের সদস্য। তার বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরীও বোমাং রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় সাচিং প্রু জেরী।

বর্তমানে তিনি বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়ক। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান-৩০০ আসন থেকে জয়ী হন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রীদের তালিকাতেও তার নাম উঠে এসেছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা

সাচিং প্রু জেরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বেশ দীর্ঘ। তিনি বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বান্দরবান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বান্দরবান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাচিং প্রু জেরী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আবারও বান্দরবান-৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

কী নিয়ে কাজ করতে চান জেরী?

নির্বাচনের আগে বান্দরবানের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে পানি সংকটের কথা তুলে ধরেছিলেন সাচিং প্রু জেরী। তিনি এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

এদিকে সাচিং প্রু জেরী নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাকে ফোন করে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত তার হাতে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।