মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা এবং এসব ঘটনায় আলেমদের ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এমনই এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের বিচারই হওয়া উচিত।
এক অনুষ্ঠানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে আলেমরা কেন নীরব থাকেন? জবাবে তিনি বলেন, কোনো অপরাধীকে তার পেশা, প্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই বিবেচ্য
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীকে বিভিন্ন পরিচয় বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করে অনেক সময় অপরাধের গুরুত্ব কমিয়ে দেখা হয়। মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা আলেম—যেই হোক না কেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তার মতে, কোনো মাদ্রাসা শিক্ষক অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে তাকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে অন্যদের জন্যও তা দৃষ্টান্ত হয়।
দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বক্তব্যে তিনি বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার সমালোচনা করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, অভিযোগ ওঠার পর যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণের আগে কাউকে চূড়ান্ত অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করাও ঠিক নয়। একই সঙ্গে অপরাধীর অধিকার রক্ষার নামে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যায়।
প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তের আহ্বান
মাদ্রাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা দ্রুত যাচাই করা সম্ভব।
শিশু বা নারীর ওপর নির্যাতনের মতো ঘটনায় অপরাধীর পোশাক, পেশা বা পরিচয় বিবেচনা না করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘ব্লেম গেম’ নয়, কার্যকর বিচার
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো অপরাধের ঘটনায় পারস্পরিক দোষারোপ না করে বিচারব্যবস্থাকে কার্যকর করার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে তার শাস্তির দাবিতে আলেম সমাজেরও সোচ্চার হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
তার ভাষায়, ধর্মীয় পোশাক বা পরিচয় কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালো মানুষ বানিয়ে দেয় না। একজন মাদ্রাসা শিক্ষকও অন্য সবার মতোই মানুষ এবং তারও ভুল বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, কোনো মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক বা সামাজিক অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে তাকে আইন অনুযায়ী যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করা উচিত। বিশেষ করে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ইসলাম, মুসলিম সমাজ বা আলেমদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।



