ঢাকার মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ–এর অভিন্ন ক্যাম্পাস কাঠামো বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিভাবকরা।
তাদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) একটি তদন্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিকে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোয় বিভক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার মান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শনিবার (৪ জুলাই) আয়োজিত দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিশেষ অধিবেশনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতামত তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়নের আধুনিক পদ্ধতি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ডিআইএ তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও শিক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শিক্ষকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করা হয়নি। ফলে এর বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা বা আপত্তি জানানোর সুযোগ তারা পাননি, যা তাদের মতে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো, একক পাঠক্রম এবং অভিন্ন একাডেমিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। ক্যাম্পাস বিভক্ত হলে এই সমন্বয় ভেঙে পড়তে পারে এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা বিভাগের এক শিক্ষক খলিলুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয় ল্যাব, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সব শাখার শিক্ষার্থীরা সমানভাবে ব্যবহার করছে। ক্যাম্পাস ভাগ হলে এসব সুবিধা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বঞ্চিত হতে পারে।
তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একই পরিবারের একাধিক শিক্ষার্থী ভিন্ন ক্যাম্পাসে পড়তে হলে ভর্তি, ফি, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক নিয়মে জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা অভিভাবকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হবে।
অভিভাবক আজিজুল ইসলাম বলেন, চার দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি একটি স্বীকৃত শিক্ষাব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই অভিন্ন পরিচয় ভেঙে গেলে সুনাম ও শিক্ষার মানে বৈষম্য তৈরি হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের বালিকা প্রভাতী শাখার শিফট ইনচার্জ ও বিশেষ কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি জানান, প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি টাকা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফ করা হয়, যা বহু সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাদের মতে, ক্যাম্পাস বিভাজন হলে এই সহায়তা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।
শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় বর্তমান অভিন্ন ক্যাম্পাস কাঠামো বহাল রাখা হোক।



