tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকভয়াবহ দাবদাহে ইউরোপে এক সপ্তাহে ১,৩০০–এর বেশি মানুষের মৃত্যু

ভয়াবহ দাবদাহে ইউরোপে এক সপ্তাহে ১,৩০০–এর বেশি মানুষের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহে গত ২১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত ১,৩০০–এর বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফ্রান্স, যেখানে প্রায় ১,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গরমে জার্মানিজুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে জরুরি পরিষেবাগুলো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। এখানে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ চরম তাপমাত্রার ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, ইউরোপ বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। ফলে একসময় যা কয়েক প্রজন্মে একবার দেখা যেত, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সেই প্রাণঘাতী দাবদাহ এখন প্রায় প্রতি বছরই ফিরে আসছে।

তেদরোস এই তীব্র গরমকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেন, ইউরোপের অনেক ঘরবাড়ি, স্কুল ও কর্মস্থল দীর্ঘস্থায়ী চরম তাপমাত্রা মোকাবিলার উপযোগী করে নির্মিত নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ডব্লিউএইচও।

চলমান দাবদাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স। দেশটির জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের সবচেয়ে উষ্ণ দিনগুলোতে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা স্বাভাবিক ৯০০ থেকে বেড়ে ১,৪০০ ছাড়িয়ে যায়। মাত্র তিন দিনেই সেখানে অন্তত ১,০০০ অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের ৮৫ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। পরিস্থিতির কারণে দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, জার্মানিতেও তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, মকার্ন-ড্রেউইটজে সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কুবশুৎজে সর্বনিম্ন রাতের তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বার্লিনে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০০টি অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েনের প্রয়োজন হয়। এমনকি ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট এলাকায় সমবেত বাসিন্দা ও পর্যটকদের শরীর ঠান্ডা রাখতে পুলিশ জলকামান দিয়ে পানি ছিটায়।

তীব্র গরমের কারণে জার্মানির বিভিন্ন বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। ট্রাইসেনের একটি বনে আগুন লাগার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সাময়িকভাবে অভিযান বন্ধ রাখতে হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়।

এদিকে, অতিরিক্ত তাপে মহাসড়কের কংক্রিট ফেটে গেছে। হামবুর্গ থেকে প্রাগগামী একটি ট্রেনের বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় ৬০০ যাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দাবদাহের প্রভাব শুধু ফ্রান্স ও জার্মানিতেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ সুইডেনের একটি বিনোদন পার্কে বজ্রপাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ডেনমার্কে বয়ে গেছে তীব্র ঝড়, আর গ্রিসের পাঁচটিরও বেশি অঞ্চলে নতুন করে দাবানলের উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ইউরোপীয় জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন–এর এক দ্রুত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন না হলে এ ধরনের তীব্র দাবদাহের সৃষ্টি কার্যত অসম্ভব ছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, ৫০ বছর আগেও এমন চরম দাবদাহ কল্পনা করা কঠিন ছিল। অথচ বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা ২০ বছর আগের তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ বেশি ঘন ঘন ঘটছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে