ভেনেজুয়েলায় ২৪ জুন ভোর ৬ টা ৪ মিনিটে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানে জোড়া ভূমিকম্প। ১২৬ বছর পর এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে দেশটির মানুষ। ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩৪২ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন।
রোববার (৪ জুলাই) দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন খাদ্য ও ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮ লিটার বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২৩ হাজার ৮২০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য ৭৯টি অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে।
এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬৭০ কোটি ডলারের বেশি বলে জানিয়েছে ইউএনডিপি। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৯০০ সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মানবিক সহায়তাবাহী বিমান অবতরণে মার্কিন বাহিনী কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে মেরামত করেছে। পাশাপাশি উপকূলে নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আরও ১০০ সদস্য এই কার্যক্রমে সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার দুর্যোগ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ হাজার ১১৭টি পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভূমিকম্পে মোট ৮৮৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী অংশ নিয়েছেন। এছাড়া রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েড প্রেসের তথ্য মতে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ এখন বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে হাজারো মানুষ বসবাস করছেন। সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।



