tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়ঢাকায় লোডশেডিং বাড়িয়ে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়ার উদ্যোগ

ঢাকায় লোডশেডিং বাড়িয়ে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়ার উদ্যোগ

  1. জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি সমস্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ, জাতীয় গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার কারণে দেশে বেড়েছে লোডশেডিং। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার ঢাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সমন্বয় করে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    ঢাকার বিদ্যুৎ যাবে অন্য অঞ্চলে

    বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের অভাবে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উৎপাদন করতে পারছে না। এর সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলায় উৎপাদন আরও কমেছে।

    অন্যদিকে সঞ্চালনব্যবস্থা ও জাতীয় গ্রিডের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতি আরও তীব্র হয়েছে।

    এ পরিস্থিতিতে ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। এতে রাজধানীতে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের গ্রামাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে।

    শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা

    বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, এ উদ্যোগের ফলে ঢাকার বাইরের শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘসময় ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমানোর চেষ্টা চলছে।

    সরকারের লক্ষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতির চাপ তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া। কোনো একটি অঞ্চল বা গ্রাহক শ্রেণিকে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎবঞ্চিত না রেখে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    বিকেল ৩টায় ঘাটতি ২,২৫৯ মেগাওয়াট

    জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট

    ওই সময় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট

    পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা

    বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের সীমাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

    ততদিন পর্যন্ত ঢাকায় সরবরাহ সমন্বয় করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ পুনর্বণ্টনের উদ্যোগকে ঘাটতি মোকাবিলার একটি সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ChatGPT