বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদের প্রতি বিএনপি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের ভোটে যে দল সরকার গঠন করবে, তারা নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সনদে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই সনদে কোন কোন রাজনৈতিক দল সম্মতি দিয়েছে এবং কারা দেয়নি, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে।’
তিনি দাবি করেন, গণআন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, যারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় এবং শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার বিরোধিতা করা একটি রাজনৈতিক দল এখন ধর্মপ্রাণ মানুষ, বিশেষ করে নারীদের প্রভাবিত করে ভোটব্যাংক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ উদার ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয়। হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। তাই বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে।’
১১-দলীয় জোটের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাদের পক্ষে জনগণের উল্লেখযোগ্য কোনো সমর্থন নেই। বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতিও খুবই কম।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবে না। তবে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সমন্বয়ের মাধ্যমে একজন করে প্রার্থী নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষ্য, একাধিক প্রার্থী হলে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।



