tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়বিমানবন্দর থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদকে সরানোর খবরটি গুজব, জানাল ফ্যাক্টচেক

বিমানবন্দর থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদকে সরানোর খবরটি গুজব, জানাল ফ্যাক্টচেক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরে আবারও বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সামনে আসার পর তার অনুপস্থিতিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার দাবিও তোলা হয়। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাকে বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে দেওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়। তিনি এখনও সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত বছরের অক্টোবরে বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব নেন কে এম আবু নওশাদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর যাত্রীসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে তার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ আলোচনায় আসে। দায়িত্ব পালনকালে বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করতেন তিনি। কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেন। তার এসব কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা পায়।

সম্প্রতি বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ উঠলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার খবর ছড়ানো হয়। একাধিক ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরই বিমানবন্দরে অনিয়ম বেড়েছে। একই সঙ্গে তাকে আবারও সেখানে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ ধরনের দাবিতে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টের আর্কাইভ পাওয়া গেছে এখানে, এখানে ও এখানে। এ ছাড়া আরেকটি ফেসবুক পোস্ট দেখা যাবে এই লিংকে।

ফ্যাক্টচেকের অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কে এম আবু নওশাদকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি এখনও সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট এক প্রতিবেদনে তার বর্তমান পদবি সিনিয়র সহকারী সচিব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কে এম আবু নওশাদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য প্রচারিত হয়। তবে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে তিনি সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান, যাতে সমস্যার প্রতিকার করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া গত ৭ অক্টোবর কে এম আবু নওশাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টেও তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই পোস্টে বিমানবন্দরে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। সেখানে জানানো হয়, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো ও অধিকার সুরক্ষায় বিমানবন্দরে চারজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিমানবন্দরের বিভিন্ন সমস্যা এবং যাত্রীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

সব তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিটি ভিত্তিহীন।