কলকাতার বেলগাছিয়ার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা দুই মাস ধরে সরকারি পাইপলাইনের খাবার পানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সংখ্যালঘু মুসলিমদের পানি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সমিরুল ইসলাম।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠিটির অনুলিপি প্রকাশ করেন তিনি। চিঠিতে সমিরুল ইসলামের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গত প্রায় দুই মাস ধরে সেখানকার বাসিন্দারা সরকারি পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত খাবার পানি পাচ্ছেন না।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ চেয়ে সাংসদ দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া এবং কলোনিতে স্থায়ীভাবে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সমিরুল ইসলামের অভিযোগ, কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের। তারা বিজেপির ভোটব্যাংকের অংশ নন—এ কারণে পরিকল্পিতভাবে তাদের পানির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পানি সংকটে ভোগান্তিতে শিশু ও প্রবীণরা
চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কলোনির শিশু, প্রবীণসহ সব বয়সী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় কয়েকটি সংস্থা বাইরে থেকে পানির ট্যাংকার এনে সাময়িকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে বলে দাবি করেছেন সাংসদ। তবে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটানোর জন্য এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
পান করার পাশাপাশি রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নিরাপদ পানির প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পানি না থাকলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। সমিরুল ইসলামের চিঠিতে বলা হয়েছে, অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত পানি সরবরাহের কারণে এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দূষিত পানি ব্যবহারে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
সাংসদের দাবি, পানির সংকট সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তাঁর মতে, বিষয়টি কেবল নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার ব্যর্থতা নয়; এর সঙ্গে মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নও জড়িত। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পানি সরবরাহে বৈষম্য করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগের বিষয়।
এ কারণে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন সমিরুল ইসলাম। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কলোনির বাসিন্দাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত খাবার পানির ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে ঠিক কী কারণে পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, এ বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।



