ময়মনসিংহে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মারুফ (২১) ও স্বাধীন (২০) নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
২০২০ সালে ঘটনার অভিযোগ
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১২ আগস্ট সকালে ভুক্তভোগীর মা প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে যান। এ সময় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি বাড়িতে একা ছিল।
এজাহার অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে মারুফ ও স্বাধীন বাড়িতে ঢুকে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন তার মা।
পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে রায়
মামলাটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আদালতে বিচারাধীন ছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ পূর্ণ সন্তুষ্ট ও খুশি।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে এবং বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাবে।’



